আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বা ‘লাস মালভিনা’র মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে আবারও নতুন করে সামনে এনেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জেভিয়ের মিলেই সম্প্রতি এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক দাবির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি একে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্পের ভূমিকা ও পরিবর্তিত সমীকরণ
এই কূটনৈতিক লড়াইয়ে এখন বড় অনুঘটক হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সম্প্রতি ফকল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের নিরপেক্ষ অবস্থানের পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন এই ইস্যুতে ব্রিটেনের পক্ষ নিলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই মিত্রতার সমীকরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। তিনি ব্রিটেনের প্রতি পরোক্ষ অসন্তোষ জানিয়ে ফকল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অস্থিরতাও এই দাবির অন্যতম কারণ। প্রেসিডেন্ট মিলেইর জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ইস্যুতে জাতীয়তাবাদের সুর চড়িয়েছেন তিনি। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কূটনৈতিক তৎপরতা তার রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও যুক্তরাজ্য সরকার বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ২০১৩ সালে দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা বিপুল ভোটে ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল। তবে আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সময়ের সাথে সাথে বিশ্বপরিস্থিতিতে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তা তাদের দাবির পক্ষে সহায়ক হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিবর্তন কি সত্যিই ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেনকে চাপে ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। বর্তমানে এই সংঘাতপূর্ণ দ্বীপ নিয়ে ওয়াশিংটন, লন্ডন এবং বুয়েনস এইরেসের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

মন্তব্য করুন