আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি ‘আনাক ক্রাকাতাউ’র আকস্মিক অগ্নুৎপাতে দেশটির আকাশসীমায় সৃষ্টি হয়েছে চরম অচলাবস্থা। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত উত্তপ্ত লাভা এবং ছাইয়ের মেঘে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জাকার্তাসহ আশপাশের অঞ্চলের বিমান চলাচল।
জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ভস্মকণার কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার যাত্রীকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও বিকল্প যাতায়াতের লড়াই
রাজধানী জাকার্তা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ গত শুক্রবার থেকে দফায় দফায় অগ্নুৎপাত শুরু করে। এর ফলে সৃষ্ট ছাইয়ের স্তর জাকার্তা এবং লাম্পুং প্রদেশের আকাশকে ঢেকে ফেলায় বিমান চলাচলের জন্য তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিমানবন্দরের টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে এবং অনেকে নিজেদের টিকিট পরিবর্তনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ফিন্না নামক এক যাত্রী জানান, ফ্লাইট অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তিনি বিকল্প হিসেবে ট্রেনে করে জাকার্তায় পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন।
ছোট ও বড় সব ধরনের সিভিল ও সামরিক বিমানের জন্য হালিম পারদানাকুসুমা বিমানবন্দরটিও বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং আকাশে ছাইয়ের ঘনত্ব কমলে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেবে।
প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চাপ তৈরি হয়েছে। যাত্রী সাধারণের জন্য এই পরিস্থিতি এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ আগ্নেয়গিরিটি এখনও ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বেশ সক্রিয়।

মন্তব্য করুন