আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ তিন দশকের এই চুক্তির মেয়াদ নবায়ন কিংবা নতুন করে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখন ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য এক নতুন পরীক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তির মেয়াদ ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো অভিন্ন নদীর পানির সুষম বণ্টন। গঙ্গা চুক্তির সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অতীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা নিয়ে উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নানা টানাপোড়েন ছিল, যা এবার নতুন মাত্রায় সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিস্তা ও অভিন্ন নদীর ভবিষ্যৎ
গঙ্গা চুক্তির পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ইস্যুটি দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়ার সাথে তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর ইস্যুগুলো যুক্ত হতে পারে। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য এই জলরাশির যথাযথ ব্যবস্থাপনা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করেন, তা এখন দেখার বিষয়। পানি নিয়ে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতা উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং পারস্পরিক আস্থার উন্নয়ন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন