অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। শুক্রবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বাস্তবতায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পুরোপুরি অবলুপ্ত।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই দলের ওপর থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার নেই। যদি তারা আইন অমান্য করে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগকে নিয়ে যেকোনো রাজনৈতিক আলোচনার প্রসঙ্গটিকেও তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মীর শাহে আলম জানান, গত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এসব নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে বাজেটে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দলীয় প্রতীকহীন নির্বাচনে আইনি পরিবর্তন
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক বা মনোনয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং সাধারণ প্রতীকে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
বগুড়ায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই বগুড়াবাসী বিমানবন্দর ও রেললাইনসহ প্রধান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবে। অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন