📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

ভাড়া দেওয়ার সময় নজরে ছিল টাকা, বাসেই ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা

ভাড়া দেওয়ার সময় নজরে ছিল টাকা, বাসেই ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: রাজধানী ঢাকার বুকে গণপরিবহনে চরম নিরাপত্তাহীনতার এক বীভৎস চিত্র বেরিয়ে এসেছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে উদ্ধার হওয়া ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে পুলিশ। বাসের ভাড়া দেওয়ার সময় যাত্রীর কাছে থাকা টাকার প্রতি লুব্ধ দৃষ্টিই শেষ পর্যন্ত ডেকে এনেছে তার মর্মান্তিক মৃত্যু।

টাকার লোভে অমানবিক হত্যাকাণ্ড

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর জামালপুর থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন ইসমাইল। ভাড়া দেওয়ার সময় লুঙ্গির কোচর থেকে টাকা বের করলে তা নজরে পড়ে বাসের সুপারভাইজার সাজুর। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি জানানো হয় বাসচালক সোহেল রানাকে, যা থেকে উদ্ভূত হয় ভয়ংকর এক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়া হলেও ইসমাইলকে বাসে আটকে রাখা হয়। এরপর সুপারভাইজার ও হেলপার মিলে ইসমাইলের হাত ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলে। পরিশেষে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে নিশ্চিত করা হয় তার মৃত্যু। জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করাই ছিল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য।

পেশাদার অপরাধীদের কবলে যাত্রী নিরাপত্তা

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেপ্তারকৃত বাসকর্মী সোহেল ও সাজুর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও ডাকাতি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি বাসচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল, যা গণপরিবহনের চালক ও কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করে। এমন অপরাধীদের হাতে গাড়ি পরিচালনার দায়িত্ব থাকা যাত্রী নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মহাখালী টার্মিনাল থেকে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিন ব্যক্তিই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা, রক্তমাখা আসনের কভার এবং জব্দকৃত মুঠোফোন এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একজন সাধারণ যাত্রীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে গণপরিবহনগুলো যখন অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়, তখন জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও পরিবহন কর্মীদের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই এখন সময়ের দাবি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.