আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গত কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্র করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার দখল নিয়েছে তারা। বিশ্ববাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আগেই স্থবির হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। এখন এই পথটিও হুমকির মুখে পড়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি ঝুঁকির সম্মুখীন।
হুতিদের সামরিক সক্ষমতা এখন আর কোনো স্থানীয় বিদ্রোহে সীমাবদ্ধ নেই। অত্যাধুনিক ড্রোন, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাগরের নিচে মাইন স্থাপনের কৌশল ব্যবহার করে তারা বড় আকারের নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্ঠীটি এখন লোহিত সাগরের সুরক্ষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওয়াশিংটনের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন উপেক্ষা করতে পারবে না। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসেবে ইয়েমেন অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক জোট গঠনের দিকে এগোতে হতে পারে। বাব আল-মানদেব প্রণালি পুনর্দখল বা সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক ধারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানেও হুতিদের দমন করা সম্ভব হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরও সংগঠিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়ে নিয়েছে। গাজায় হামাসের সমর্থনে তাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম লোহিত সাগরকে বৈশ্বিক সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, মিত্র দেশ সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ঠিক রাখা এবং একই সঙ্গে ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলা করা। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে হোয়াইট হাউসকে এখন সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মন্তব্য করুন