📅 শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফের দুই সচিব নিয়োগ, একীভূতকরণ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফের দুই সচিব নিয়োগ, একীভূতকরণ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ একীভূত করার দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ পৃথক দুই বিভাগে নতুন দুই সচিবকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সরকারের এমন আকস্মিক আদেশে মন্ত্রণালয়ের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া থমকে গেল কি না, তা নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আ ন ম বজলুর রশিদকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, এতদিন ধরে এককভাবে দুই বিভাগের সচিবের দায়িত্ব সামলে আসা কামরুজ্জামান চৌধুরীকে এক পৃথক আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতা

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি আলাদা বিভাগকে ভেঙে একক কাঠামোর আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই মূলত এই দুই বিভাগকে এক করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

নিকারের সেই সিদ্ধান্তের পর গত কয়েক মাস ধরে মন্ত্রণালয়ের জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাস, নতুন পদের রূপরেখা তৈরি এবং দপ্তরগুলোর দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কার্যক্রম ধীরগতিতে হলেও চলমান ছিল। ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সারওয়ার বারী অবসরে যাওয়ার পর একীভূতকরণ ত্বরান্বিত করার স্বার্থেই শূন্য পদে নতুন সচিব নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন একক সচিবের অধীনে মন্ত্রণালয় পরিচালিত হওয়ায় প্রশাসনিক সংস্কার এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

নীতি নির্ধারণে অস্পষ্টতার আশঙ্কা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে আবার দুজন সচিব নিয়োগের ফলে নিকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থমকে যাবে নাকি তা বাতিল করা হলো, সে সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি। কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক সংস্কারের এই সংবেদনশীল সময়ে নীতিগত অস্পষ্টতা থাকলে সেবা প্রদান ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোর এই দ্বৈততা দূর করে সরকারের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দ্রুত স্পষ্ট করার তাগিদ দিচ্ছেন তারা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.