অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: আফ্রিকার অন্তত ছয়টি দেশে ‘যৌনাঙ্গ চুরির’ মতো অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন অভিযোগে গত নয় মাসে ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিবিসি গ্লোবাল ডিসইনফরমেশন ইউনিটের তথ্যে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ সহিংসতার চিত্র।
গুজবটি মূলত এমন একটি ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে যে, অপরিচিত কোনো ব্যক্তি পিঠে হাত ছোঁয়ালেই পুরুষের যৌনাঙ্গ ছোট হয়ে যাচ্ছে অথবা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এই অবৈজ্ঞানিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে উশৃঙ্খল জনতা সন্দেহভাজনদের ওপর চড়াও হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের বিস্তার
আধুনিক যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার এই কুসংস্কারকে আরও ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে, যা পরিণামে গণপিটুনির মতো জঘন্য অপরাধের পথ প্রশস্ত করছে।
তানজানিয়ার মেকানিক বনিফাস এমগালা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ওপর নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, যৌনাঙ্গ চুরির ভিত্তিহীন অভিযোগে উত্তেজিত জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং মারধর শুরু করে, যেখানে কোনো নির্দোষ ব্যক্তির আত্মরক্ষার সুযোগ থাকে না।
কুসংস্কার ও পুরনো আতঙ্কের পুনরাবৃত্তি
আফ্রিকার বিভিন্ন জনপদে জাদুটোনা এবং অতিপ্রাকৃত শক্তির ওপর দীর্ঘদিনের পুরনো বিশ্বাস এই ধরনের সহিংসতার পেছনে প্রভাব ফেলে। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রসহ মহাদেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অতীতেও এই ধরনের গুজবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা আজও সমাজের গভীরে প্রোথিত ভীতিকে উসকে দেয়।
বিবিসির যাচাই করা ভিডিও ফুটেজগুলোতে দেখা যায়, অপরিচিত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শের পর কথিত ‘চুরি যাওয়া’ অণ্ডকোষ বা পুরুষাঙ্গ ফেরত দেওয়ার দাবিতে অভিযুক্তদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার অভাব ও ভুয়া তথ্যের সংমিশ্রণে সৃষ্ট এক মরণব্যাধি।
এই অমানবিক ঘটনাগুলো আফ্রিকার প্রান্তিক জনপদগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। গুজব ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জোরালো সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি সঠিক তথ্যের প্রচার এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন