📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬  |  ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নবোদিশা সত্য ও ন্যায়ের সাথে প্রতিদিন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

নেপালের টানেল থেকে উদ্ধার: এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক অভিযানের গল্প

নেপালের টানেল থেকে উদ্ধার: এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক অভিযানের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটিকে ‘স্তরে স্তরে সাজানো অলৌকিক’ আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক টানেল বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স। গত সপ্তাহে ত্রিশূল ৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলটি বন্যার করাল গ্রাসে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে যায়। প্রাণঘাতী এই বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ প্রবেশপথের সন্ধানে

প্রকৃতির তাণ্ডবে পাহাড়ের গঠন এতই পরিবর্তিত হয়েছিল যে টানেলের প্রবেশপথ খুঁজে পাওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্টারন্যাশনাল টানেলিং অ্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড স্পেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর্নল্ড ডিক্স জানান, পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত প্রবেশপথটি এখন মাটির নিচে সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছিল। পুরোনো মানচিত্র, স্যাটেলাইট চিত্র এবং হেলিকপ্টারের ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে প্রকৌশলীরা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর টানেলের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করেন।

প্রবেশপথ পাওয়ার পর শুরু হয় মূল উদ্ধার অভিযান। টানেলটি পাথর এবং কাদামাটিতে এমনভাবে ব্লক হয়ে গিয়েছিল যে পথ তৈরি করা ছিল প্রায় অসম্ভব। উদ্ধারকারী দলকে গাড়ি সমান বড় বড় পাথর সরাতে হয়েছে, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বিস্ফোরকের ব্যবহারে নিখুঁত প্রকৌশল

টানেলের পথ পরিষ্কার করতে উদ্ধারকারীদের বাধ্য হয়েই বিস্ফোরক ব্যবহার করতে হয়েছে। সচরাচর এমন পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক ব্যবহার করা নিষিদ্ধ থাকলেও, নেপালি সেনাবাহিনীর দক্ষ সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তা পরিচালনা করেন। বিস্ফোরক ব্যবহারের সময় যেন টানেলের ভেতর থাকা মানুষ কিংবা উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা ছিল সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

আর্নল্ড ডিক্স নেপালি সেনাবাহিনীর এই নির্ভুল কাজকে অত্যন্ত প্রশংসার দৃষ্টিতে দেখেছেন। প্রায় অসম্ভব এই উদ্ধারকাজে আধুনিক প্রযুক্তি ও সাহসকে কাজে লাগিয়েই শুক্রবারে দুই কর্মীকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়। এই উদ্ধারকাজ আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.