আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবদিশা: বিশ্বজুড়ে শতাব্দীকাল ধরে প্রচলিত মানচিত্রগুলোতে আফ্রিকাকে তার প্রকৃত আয়তনের চেয়ে অনেক ছোট করে দেখানো হয়। এই দীর্ঘদিনের ভ্রান্তি নিরসনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাস হয়েছে। ১৬৪টি সদস্য রাষ্ট্র এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট প্রদান করে, যা মূলত আফ্রিকার দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন একটি দীর্ঘ আন্দোলনের বিজয়।
মানচিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গির সংযোগ
মানচিত্র কেবল একটি ভৌগোলিক চিত্র নয়, বরং এটি পৃথিবীর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডাসি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, একটি নিরপেক্ষ মানচিত্র পৃথিবীর ভূগোল পরিবর্তন করে না, বরং বিশ্বকে দেখার আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেয়। ১৬শ শতকের নাবিকদের জন্য তৈরি মারকেটর প্রজেকশন আজও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, যা নিরক্ষরেখা থেকে দূরে থাকা মহাদেশগুলোর আয়তনকে অতিরঞ্জিত করে প্রদর্শন করে।
এই প্রস্তাবটি কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যমান মানচিত্র ব্যবহারে বাধ্য করে না। তবে জাতিসংঘ স্কুল, সরকার এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’-এর মতো মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করছে। এই পদ্ধতিগুলো পৃথিবীর গোলকীয় আকৃতিকে দ্বিমাত্রিক তলে অধিকতর নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক স্বার্থে তৈরি মানচিত্রগুলো আফ্রিকার মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় মহাদেশের গুরুত্বকে খর্ব করেছে। প্রস্তাবটির বিপক্ষে একমাত্র ভোটটি এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যারা এটিকে একটি আদর্শিক প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এছাড়া ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও অধিকাংশ রাষ্ট্র এই পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় মানচিত্রের সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন জানতে পারে, কোনো সমতল মানচিত্রই গোলকীয় পৃথিবীর নিখুঁত প্রতিফলন হতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক মানচিত্রের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছে, যা মহাদেশীয় সাম্য ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন