রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহতের নাম লাকি আক্তার। মঙ্গলবার সকালে মীর হাজিরবাগ পাইপ রোড এলাকার একটি টিনশেড বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাটি শ্যামপুর থানা-এর আওতাধীন এলাকায় ঘটে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার গভীর রাতের কোনো এক সময় স্বামী সজীব তার স্ত্রী লাকিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান।
কীভাবে মরদেহ উদ্ধার করা হয়
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে ঘরের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ দেখে সন্দেহ হয়। পরে ভেতরে ঢুকে লাকির রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান তারা। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘরের ভেতরে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পারিবারিক কলহের ইঙ্গিত
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দম্পতির মধ্যে মাঝেমধ্যে পারিবারিক কলহ ছিল। তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনার আশঙ্কা কেউ করেননি। পুলিশ বলছে, হত্যার পেছনে পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের পরিচয় ও বর্তমান অবস্থা
নিহত লাকি আক্তারের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার রতনপুর এলাকায়। স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শ্যামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Leave a Reply