গণভোট বাতিল করা হলে সাম্প্রতিক নির্বাচন ও নবগঠিত সরকার বৈধতা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝতা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। জনগণ তাদেরকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের কথা বিবেচনা করে যদি তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের সময় ভারত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে যোগসাজশ হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে বিএনপি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন এবং অভিযুক্তদের দলে ভেড়ানোর মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে চালানো হয়েছে।
এদিকে, এনসিপির সদস্য সচিব ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন বলেছেন, জনগণের চাপের মুখে বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, নবনির্বাচিত সরকার বিচার কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
তিনি জানান, সরকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানো হলেও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ট্রাইবুনালের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply