ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা, আলোচনায় আসিফ মাহমুদ ও ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ইশরাক হোসেন ও আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য লড়াই

রাজধানীর রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া এবং বিএনপি নেতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রাজপথের আন্দোলনের পর এবার তারা মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ভোটের মাঠে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান,
“ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করব, ইনশাআল্লাহ।”

সংসদ সদস্য থেকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক হোসেন। প্রথমবার সংসদে গিয়েই তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

ইশরাক হোসেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ সন্তান। রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি নিজস্ব সক্রিয়তায়ও তিনি পরিচিত।

আসিফ মাহমুদের নাম নিয়ে জল্পনা

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক সাম্প্রতিক সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়ার নাম প্রাথমিকভাবে আলোচনায় এসেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ কারণে ইশরাক হোসেনের ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এই দুই নেতা?

সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি

সংসদ নির্বাচন শেষে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঈদের পর নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার। এসব প্রশাসকই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা

ইশরাক হোসেন এর আগেও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস। ওই নির্বাচনে তাপস বিজয়ী হলেও শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ইশরাক হোসেন আদালতে মামলা করেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সরকার পতনের মাধ্যমে মেয়র পদ শূন্য হয়। আদালতের রায়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

তবে আইনি জটিলতার কারণে তিনি শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। সে সময় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তার সম্পর্কেও টানাপড়েন তৈরি হয়।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে বিএনপির শক্ত প্রার্থী হিসেবে ইশরাক হোসেন, অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সম্ভাব্য মুখ হিসেবে আসিফ মাহমুদ—এই দুই নেতার মুখোমুখি লড়াই হলে রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শেষ পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্তকরণ ও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.