অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা:
১৬৩১ সালের ১৭ জুন, দাক্ষিণাত্যের বুরহানপুরে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজপ্রাসাদে নেমে এসেছিল বিষাদের ছায়া। প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল তাঁর চতুর্দশ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টার প্রসবযন্ত্রণার শিকার হন। উনিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে এটি ছিল তাঁর শেষ লড়াই, যা ইতিহাসে ভালোবাসার এক বিয়োগান্তক অধ্যায় হয়ে আছে।
মমতার শেষ প্রহর ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা
সম্রাজ্ঞীর পাশে তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা জাহানারা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই সময়ের সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী, মুঘল হাকিমরা গ্রিক চিকিৎসক গ্যালেনের চার তরল উপাদানের ভারসাম্য তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা চালাতেন। তবে মমতাজ মহলের শরীরের ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়লে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায়, তিনি সম্ভবত প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ বা পোস্টপার্টাম হেমোরেজের শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘ ক্লান্তিতে ভেঙে পড়া সম্রাজ্ঞী মৃত্যুর আগ মুহূর্তে কন্যা জাহানারাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সম্রাট শাহজাহানকে ডেকে আনার জন্য। এক কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই শুরু হওয়া এই অকাল রক্তক্ষরণ তাঁর প্রাণশক্তির সবটুকু কেড়ে নেয়।
তাজমহলের শ্বেতপাথরের মহিমা বিশ্বজুড়ে অমর হয়ে থাকলেও, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল মূলত এই চরম বেদনার ওপর। ইতিহাসের পাতা ও গবেষক সুপ্রিয়া গান্ধীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সম্রাটের জীবনে এই শোক ছিল এক গভীর ও অপূরণীয় শূন্যতা। সেই করুণ প্রসববেদনা ও সম্রাজ্ঞীর শেষ ইচ্ছা শাহজাহানকে আজীবন বিমর্ষ করে রেখেছিল, যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই গড়ে ওঠে তাজমহলের মতো বিশ্ববিখ্যাত স্মৃতিসৌধ।

মন্তব্য করুন