আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নবোদিশা: অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রামে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনি কিশোরের প্রাণহানি ঘটেছে। ইহুদি বসতি স্থাপনকারী এবং ইসরায়েলি সেনাদের যৌথ অনুপ্রবেশের সময় ওমর আল-নাসান এবং খলিল আবু আলিয়া নামের দুই কিশোর গুলিতে নিহত হন। শোকাহত এক পিতার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে এক চরম বাস্তবতা, যেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের সন্তানদের মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকি।’
অবরুদ্ধ জীবনে বাড়ছে লাশের মিছিল
পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আল-মুঘাইয়ির গ্রামে প্রায় প্রতিদিনই বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় ধরে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৮০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা সহিংস দাঙ্গাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শান্ত গ্রামটিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে নিরীহ কিশোরদের হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
ফিলিস্তিনিদের জন্য বসতি স্থাপনকারীদের এই আগ্রাসন একটি নিত্যদিনের অভিশাপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত ভূখণ্ডে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো এখন কেবল তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েই নয়, বরং বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার নিয়েও শঙ্কিত।
নিরপরাধ কিশোরের রক্তে রঞ্জিত পশ্চিম তীরের মাটি এখন বারুদ আর ক্ষোভের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। বিশ্বনেতাদের নীরবতা ফিলিস্তিনিদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। একদিকে দখলদারিত্বের থাবা আর অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনায় বিপর্যস্ত পশ্চিম তীরের প্রতিটি গ্রাম। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মন্তব্য করুন