ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন — এমন খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ইরানজুড়ে। শুধু দেশটিই নয়, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি রোববার সকালে জানায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জরুরি বৈঠক করেছে।
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরের দিকে তেহরানে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে জানিয়েছে, খামেনির বাসভবনের আশপাশে বড় ধরনের ধ্বংসের চিহ্ন দেখা গেছে। ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে আগুনে পোড়া দাগ রয়েছে, যা বড় বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটি খামেনির অফিসেই সংঘটিত হয়েছে। তিনি তখন সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরান ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং সেই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সুপ্রিম লিডার।
এই হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
ইতোমধ্যে তেহরানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

Leave a Reply