মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনার পর ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ফলে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব জ্বালানি বাজারসহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও।
সম্পর্কিত খবর:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে ক্ষমতা পরিবর্তনের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল নয়, ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্বে তেলের সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশ্বের বড় অংশের তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে এবং অনেক দেশ জ্বালানি সংকটে পড়বে।
বাংলাদেশের মজুদ কম, বড় ঝুঁকি
বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা সীমিত। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে সাধারণত ১৭ থেকে ২০ দিনের বেশি পরিশোধিত তেল সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়।
যদি সরবরাহ বন্ধ থাকে এক মাসের বেশি, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়ালে বিপদে পড়বেন প্রবাসীরা
ইরান–ইসরায়েল সংঘাত ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবসহ যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব এলাকাও হামলার ঝুঁকিতে আছে।
এই অঞ্চলে লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি খারাপ হলে তাদের নিরাপত্তা, আয় এবং দেশে টাকা পাঠানো সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, রেমিটেন্স কমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হবে।
দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে দ্রুত ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বিভক্ত থাকায় রেজিম পরিবর্তন সহজ নয়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
জাতিসংঘ যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিতে পারে, তবে বড় শক্তিগুলোর স্বার্থ জড়িত থাকলে দ্রুত সমাধান আসবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া উত্তেজনা যদি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

Leave a Reply