শিক্ষা কারিকুলাম ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো স্পষ্ট অবস্থান জানালেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বর্তমান কারিকুলাম পুরোপুরি বাতিল বা আমূল পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে এর কার্যকারিতা, বাস্তব প্রয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব—এসব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা স্থির কোনো কাঠামো নয়; সময়, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি এগিয়ে নিতে হয়। সে কারণেই পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, “পরিবর্তনের আগে মূল্যায়ন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজের আগের দায়িত্ব পালনের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় নকল ও প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার আপসহীন থাকবে বলে জানান তিনি।
শপথ গ্রহণের দিন জাতীয় সংসদে প্রবেশের সময় তার ‘জাম্প’ করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী রসিকতার সুরে বলেন, শিক্ষা খাতে শুধু ছোটখাটো অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। “শুধু হাইজাম্পে হবে না, পোল ভল্টের মতো বড় লাফ দিতে হবে”—বলেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সাহসী পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে দক্ষতা নির্ভর শিক্ষা, প্রযুক্তির সমন্বয় এবং কর্মমুখী পাঠ্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে কারিকুলাম মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

Leave a Reply