অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা:
পঞ্চাশ বছর আগের এক শোকাবহ ঘটনা আজও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণোত্তর অধ্যায়কে ঘিরে এক বিশাল জিজ্ঞাসচিহ্ন তৈরি করে রেখেছে। ১৯৭৬ সালে কবির মৃত্যুর পরদিন কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত শোকসভায় কবির জ্যেষ্ঠ পুত্র কাজী সব্যসাচীর বিধ্বস্ত উপস্থিতি সেদিনের পরিবেশকে ভারী করে তুলেছিল। ঢাকা থেকে ফিরে আসা সব্যসাচী ও পুত্রবধূ কল্যাণী কাজীর কণ্ঠে সেদিন ফুটে উঠেছিল গভীর বিষাদ ও এক অজানা ক্ষোভ।
পরিবারের ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় বাস্তবতা
সব্যসাচী বারবার আক্ষেপ করছিলেন যে, ঢাকার কর্তৃপক্ষ আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই তিনি বাবার শেষ শয্যা দেখতে পেতেন। নজরুলের পরিবারকে না জানিয়ে কিংবা ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কবির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। গবেষক বাঁধন সেনগুপ্তের মতে, কবির মরদেহ জন্মস্থান চুরুলিয়ায় স্ত্রী প্রমীলা দেবীর পাশে সমাহিত করার পারিবারিক ইচ্ছার চেয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তই সেদিন প্রাধান্য পেয়েছিল।
কবির পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীতশিল্পী সোনালি কাজীর ভাষ্যমতে, ১৯৬২ সালে প্রমীলা দেবীর মৃত্যুর আগে তিনি বারবার অনুরোধ করেছিলেন নজরুলকে যেন তার পাশেই শায়িত করা হয়। প্রমীলার মৃত্যুর পর কবির অসুস্থতা ও সৃষ্টিহীন জীবনের চার বছর যে স্বাধীন বাংলাদেশে অতিবাহিত হবে, তা ছিল তখনকার পরিস্থিতির এক অকল্পনীয় মোড়। চুরুলিয়ার পরিবর্তে ঢাকার মাটিতে কবির চিরনিদ্রা সেই সময়কার রাজনৈতিক ও আবেগীয় টানাপোড়েনের এক নীরব সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
নজরুল গবেষকদের মতে, সেদিনের সেই তাড়াহুড়ো ছিল তৎকালীন রাষ্ট্রিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের এক জটিল প্রতিফলন। কবির পরিবার যে সংবেদনশীলতার প্রত্যাশা করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় সেই আক্ষেপের রেশ আজও রয়ে গেছে। পারিবারিক ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার এই দ্বৈরথ আজও সাহিত্যের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত প্রশ্ন হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।

মন্তব্য করুন