অনলাইন ডেস্ক, নবদিশা: মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল শর্তানুযায়ী, স্বাক্ষরকারী কোনো দেশের ওপর বহিঃশত্রুর হামলা সামগ্রিকভাবে এই তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।
চুক্তির নেপথ্য ও বাংলাদেশের আগ্রহ
২০২৩ সালে গাজায় শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ এক বছর আলোচনার পর এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই জোট গঠিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি পর্যায়ে এই আগ্রহ প্রকাশের পেছনে নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ কাজ করছে।
অধ্যাপক সাহাব এনাম খান জানান, এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সংহত করার একটি পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই জোটের কাঠামোগত প্রভাব নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
ঝুঁকি ও দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি
দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক বিন্যাসে এই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের জোটে যোগ দেওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশ এখন একদিকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সরকারের তরফ থেকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব ধরণের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন