এবার নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলা, মৃত্যুর গুঞ্জনে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আগুনের দৃশ্য, নেতানিয়াহু কার্যালয়ে হামলার খবর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যেন থামছেই না। ইরান-ইসরাইল সংঘাতের নতুন মোড়ে এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। হামলার পর থেকেই নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি, আর তাতেই ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যুর গুঞ্জন।

বিভিন্ন আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) লক্ষ্যভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায়। সেই তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ইসরাইল সরকার এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

এর আগে তেহরানে আকস্মিক হামলার খবর সামনে আসার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ওই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাত রয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

তেহরান হামলার পর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কথা জানায় আইআরজিসি। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। কিছু অনলাইন সূত্রে এমনও বলা হচ্ছে, কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে নেতানিয়াহুকে ঘিরে ছড়ানো খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক হামলার পর তিনি আর জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি কিছু ভুয়া ব্রেকিং নিউজে তার মৃত্যুর খবরও প্রচার করা হয়, যা পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এসব খবরকে গুজব বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কোথায় আছেন, তিনি নিরাপদ আছেন কি না — সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাচাই না করা তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন উদ্বেগে পুরো বিশ্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.